1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামিউল সাদী, চাকরি বাণিজ্যেই ১০ কোটি টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের সময় জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ১৮০০ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও পরে তা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম সাদী। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি। শুধু ২০২৩ সালে ৩০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

‘সিন্ডিকেট’ গড়ে নিয়োগ বাণিজ্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের জুনে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। সে সময় নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন উপপরিচালক (প্রশাসন) আ ফ ম আখতার হোসেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ডা. সাদী। সহযোগী হিসেবে ছিলেন অধিদপ্তরের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহব্বত হোসেন খান, এমবিডিসি দপ্তরের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল মমিন শেখসহ কয়েকজন।

সরকারি সিদ্ধান্তে পরীক্ষাবিহীন বিশেষ ব্যবস্থায় ১৪৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগেও ব্যাপক ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। প্রতিটি নিয়োগে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ওই সময় পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন ডা. বেলাল হোসেন। পরে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. সাদীর প্রভাবেই বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হতো। হাসপাতালের অনুমোদন ও সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আশিকুর রহমান বলেন, ৩০ জনের কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয় তার মাধ্যমে।

টাকা রাজধানীর লালমাটিয়ায় আন্দালিব রহমান নামে এক ব্যক্তির বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় ডা. সাদীর নির্দেশনায়। কিন্তু চাকরি হয়নি, টাকা ফেরতও মেলেনি।

আরেক ভুক্তভোগী মো. নুরুল বলেন, “চাকরির আশায় আমরা ৮ লাখ টাকা করে দিই। পরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।”
মাহফুজ আহম্মেদ ও ইমরান হাসান নামের আরও দুজন অভিযোগ করেন, জমি বিক্রি করে টাকা দিলেও চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

তাদের দাবি, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় লিখিতভাবে আংশিক টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এর সময় থেকেই ডা. সাদীর উত্থান। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন এ লিখিত অভিযোগও দেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের রায়কোট এলাকায় গ্রামের বাড়িতে প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।

রাজধানীর ধানমন্ডিতেও আলিশান ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম সাদী বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমার কাছে কেউ কোনো টাকা পাবে না।”

অন্যদিকে সাবেক এমপি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ডা. সাদীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট