বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আবারও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (লাইসেন্স) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জিয়াউর রহমান তার পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে লাইসেন্স ইস্যু, গাড়ি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। এতে সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মেকানিক থেকে এডি: প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি
সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে একজন সাধারণ মেকানিক হিসেবে। পরে বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। নরসিংদীতে পোস্টিংকালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রভাবশালী সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে তিনি মিরপুর বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে পদায়ন পান। সে সময় মিরপুরে এডি পদে আরেকজন কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য ও বিলাসী জীবনযাপন
বিআরটিএর একজন সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জীবনযাপনের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকে একটি অভিজাত বাড়িতে বসবাস করছেন। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-১৬-১৪১৭) ব্যবহার করেন, যার অর্থনৈতিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ
মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাইসেন্স ইস্যু ও গাড়ি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন,
“তার ক্ষমতা ও প্রভাব এত বেশি যে, অনেকেই অভিযোগ করতেও সাহস পান না।”
আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান সরকারের অন্তর্বর্তী সময়েও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অন্য অনেক কর্মকর্তা আত্মগোপনে গেলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জনমনে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিআরটিএর মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ সংস্থার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন।
সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের ভাষ্য,
“লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজ করতে গিয়ে আমাদের বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়। যদি এসব অনিয়ম বন্ধ হতো, সেবাও সহজ হতো।”
দুদকের হস্তক্ষেপ চায় জনগণ
অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা জিয়াউর রহমানের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং সরকারি সংস্থাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি পদায়ন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল নজরদারির একটি বড় উদাহরণ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।