চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. নাজির আহমেদ রিপনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে অনিয়মের মাত্রা বেড়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ-
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০০ টাকা এবং নকল দলিলের জন্য ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া অডিটের সময় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, আকস্মিক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রেক্ষিতে ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জেলার কাজী রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদকে ১৫টির বেশি লিখিত অভিযোগ-
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এত অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার ও অধীনস্ত কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে অনিয়মে সম্পৃক্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন-
স্থানীয়দের দাবি, জেলা রেজিস্ট্রারের নামে ঢাকার লালবাগ, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া নিউমার্কেটে একাধিক দোকান, ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা, কেরানীগঞ্জ ও কালীগঞ্জে মার্কেট এবং বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
বক্তব্য মেলেনি-
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. নাজির আহমেদ রিপনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশের দাবি, কার্যকর তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
তারা স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।