যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ট্রান্সপোর্ট মেকানিক আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সহকর্মীদের একাংশের দাবি, তৃতীয় শ্রেণীর এই কর্মচারী বেতনভুক্ত চাকরির আড়ালে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় চারতলা বাড়ি, পুরান ঢাকার নারিন্দায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি আধুনিক ফ্ল্যাট, কুমিল্লার লাকসামে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে মোটা অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রসহ একাধিক সম্পদের মালিক তিনি।
এছাড়া আরও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, নারিন্দার নিজস্ব ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে একই এলাকায় অন্য একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন, যার মাসিক ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি।
তার তিন সন্তানের মধ্যে দুইজন ঢাকার স্বনামধন্য আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং অপরজন সেন্ট জোসেফ স্কুলে অধ্যয়নরত।
অভিযোগ রয়েছে, পদমর্যাদা অনুযায়ী সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি না থাকলেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। আরও অভিযোগ, অধিদপ্তরের নিলামকৃত একটি গাড়ি নিজ নামে ক্রয় করে সেটির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে বহন করানোর পাশাপাশি সরকারি ড্রাইভার ব্যবহার করছেন।
এছাড়া ব্যক্তিগত কাজে একজন এমএলএসএস কর্মচারীকে সার্বক্ষণিক ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। বিনিময়ে তাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী।
তাদের প্রশ্ন, প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে কীভাবে ঢাকায় বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট এবং গ্রামের বাড়িতে ডুপ্লেক্স নির্মাণ সম্ভব?
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আহসান হাবীবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।