1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জেরে হাতিয়ায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

হাতিয়া প্রতিনিধি.
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা এলাকায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন সন্তানের জননী এক নারীকে (৩২) ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল-এ এসে ভুক্তভোগী এ অভিযোগ করেন। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী নারী চানন্দি ইউনিয়ন-এর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাতিয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা চূড়ান্ত মতামত দেবেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালান এবং ভোটের দিন ওই প্রতীকে ভোট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কালা এমরান ও অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন এবং রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
তিনি আরও জানান, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শনিবার সকালে রহমান, এমরান, রুবেল ও মতিনসহ ৫০-৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করা হয় এবং হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখলেও পরে চিকিৎসা নিতে এসে বিস্তারিত জানান বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

পরিবারের বক্তব্য-
ভুক্তভোগীর চাচাতো বোন শাহিনুর আক্তার শাবনুর জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করছিলেন। ভোটের দিন বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাদের আটকে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা বাড়ি ফেরেন।

রাতের দিকে অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ভুক্তভোগী স্বামীকে নিয়ে ঘরে যান। পরে রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত রহমানসহ আরও দুজন ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, ভোট দেওয়া নিয়ে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন-এ ধানের শীষ প্রতীকে পরাজিত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম দাবি করেছেন, ঘটনাটি সঠিক নয়; এটি একটি সাজানো ঘটনা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট