পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও শাশুড়ি কারিমা খাতুনকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোট ১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ২৮৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ বাদী হয়ে স্থানীয় দুদক কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ বর্তমানে ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ পরিদর্শক (ক্রাইম শাখা) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুদক জানায়, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ ১৯৯১ সালে পুলিশের উপ-পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ও চোরাকারবারীদের সঙ্গে সখ্য, মিথ্যা মামলা রেকর্ডসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় চালু হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী ফারহানা আক্তারের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। এসব এনআইডি ব্যবহার করে এক কোটি টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র কেনা হয়। এ ছাড়া ফারহানা আক্তারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৪ টাকা আমানত, ৩১ লাখ টাকায় একটি গাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সৈয়দ আব্দুল্লাহর নামে দুটি প্লট, তার স্ত্রীর নামে দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট ও একটি বাণিজ্যিক স্পেস কেনা হয়েছে। একইভাবে ফারহানা আক্তারের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করে তার মা কারিমা খাতুনের নামে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট কেনা হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ বলেন, অনুসন্ধানে সৈয়দ আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।