1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য ও জাল রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম, যিনি “ভাতিজা রফিক” নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, সিএনজি রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি, ঘুষ-দুর্নীতি এবং দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ-
২০১৫ সালে চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিএনজি অটোরিকশার নতুন রেজিস্ট্রেশনের নামে আট ডিলারের মাধ্যমে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মেলে বলে জানা যায়। তবে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তিনি শাস্তি এড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাঁকে ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় অর্জিত অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হতো।

ঢাকায় দালাল সিন্ডিকেট-
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলির পর তিনি রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস কার্যক্রম ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর-১০ এলাকার শাহাবাস্তিতে একটি অফিসের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো।

সেখানে সহযোগী হিসেবে হারুন অর রশিদ ওরফে রুবেলের নামও উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ দালাল ছাড়া কাজ করতে পারতেন না। ঘুষ ও হয়রানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
২০২৪ সালে তিনি সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি বিআরটিএ সদর দপ্তরে উপপরিচালক (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত এবং ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলাম আত্মীয়-স্বজনের নামে রাজধানীতে একাধিক ব্যবসা ও সম্পদ গড়ে তুলেছেন। মগবাজার এলাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। সিন্ডিকেট পরিচালনায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিএনজি রেজিস্ট্রেশনে অনিয়ম
২০১৬ সালে ঢাকা জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিএনজি রেজিস্ট্রেশনে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেন বলে অভিযোগ। ডিলারদের সহযোগিতায় হাজারো সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়, যেখানে প্রতিটির জন্য বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়, যাদের অনেকেরই ঠিকানা ছিল ভুয়া। এতে রাজধানীতে সিএনজির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং যানজট ও ভাড়া বিশৃঙ্খলা বাড়ে।
কঠোর ব্যবস্থার দাবি
এক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী বলেন, শুধু বদলি নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। তাহলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
বিআরটিএ দীর্ঘদিন ধরেই দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত।

তবে রফিকুল ইসলামকে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু প্রশাসনিক বদলি নয়, কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট