1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

চসিক প্রকৌশলী শাহীন–মুক্তা দম্পতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, বিদেশে সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী, সিভিল বিভাগের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তারা প্রভাব খাটিয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন-
শাহীন উল ইসলামের কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিকভিত্তিক বিল্ডিং সুপারভাইজার হিসেবে। পরে অস্থায়ী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি অফিস আদেশের মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন। এরপর ২০২৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে দুই ধাপ উপরে উঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান।

এ ধরনের দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বদলি
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের সড়কবাতি বন্ধ রাখার ঘটনায় শাহীন উল ইসলাম বিতর্কে জড়ান। পরে তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বদলি করা হলেও সেখানে দায়িত্ব পালনকালে পদোন্নতি পান। অতীতে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং এক সংখ্যালঘু কর্মকর্তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগেও তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

প্রকল্প পরিচালনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, শাহীন উল ইসলামের প্রভাবেই তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তা অস্থায়ী সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালে স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, বড় প্রকল্পের পরিচালক হতে স্থায়ী কর্মকর্তা হওয়া এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পদের বিস্তার ও বিদেশে বিনিয়োগের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দম্পতির ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাদের সম্পদের পরিমাণের বড় অসামঞ্জস্য রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট, উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানদের ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা, বোয়ালখালী উপজেলায় জমি এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেনামি ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

এছাড়া আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ক্রয় ও অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো সরকারি বা আদালত পর্যায়ে যাচাই হয়নি।
সাবেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ
চসিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণিত সিদ্ধান্ত এখনো সামনে আসেনি।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও প্রকৌশলীদের একটি অংশ বলছে, প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদিনের প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়ে স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সম্পদ যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি। শাহীন উল ইসলাম ও ফারজানা মুক্তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাগরিকদের দাবি, বিদেশে বিনিয়োগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সম্পদ এবং বড় প্রকল্পে দায়িত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৌশল বিভাগে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট