1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

‘ইট দিয়ে থেঁতলে’ই হত্যা করা হয় জামায়াত নেতাকে , প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়াবহতা-

শেরপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে মাথার পেছনে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী জানান, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বর্ণনায় মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী বলেন, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান শেষে রেজাউল করিম নিজ উপজেলায় ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, রাস্তায় ব্যারিকেড থাকায় বিকল্প পথে যেতে হবে এবং কেবল জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে। এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বাদল বলেন, কর্মীদের রেখে তিনি একা যেতে পারবেন না।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জামায়াত প্রার্থী প্রশাসনের সঙ্গে উত্তর দিকে চলে যান। পরে পেছনে পড়ে যাওয়া জামায়াত কর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার সামনেই ৮ থেকে ১০ জনকে মারধর করা হয় এবং রেজাউল করিমকে নিথর অবস্থায় টেনে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমার চোখের সামনে রেজাউল ভাইকে পিটিয়ে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যায়। মাথার পেছনে ইটের আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে অটোরিকশায় ঘুরপথে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে কয়েকশ চেয়ার ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। উভয় পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রেজাউল করিমের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, বিএনপি সমর্থকদের হামলায় তাদের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট