1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

সংসদের উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী? প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে গেজেট প্রকাশ করে ফলাফল আনুষ্ঠানিক করেছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে শুরু হওয়ার কথা সংসদের প্রথম অধিবেশন।

এবারের সংসদ কাঠামোতে আসছে বড় পরিবর্তন। এতদিন দেশে ছিল এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। এবার প্রথমবারের মতো গঠিত হচ্ছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ।

নিম্নকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত হবে নিম্নকক্ষ। এর সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য যুক্ত হলে নিম্নকক্ষের মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫০ জনে।

নির্বাচনের পরপরই নিম্নকক্ষ কার্যক্রম শুরু করবে। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো ২১০ দিনের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হবে।

উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে
উচ্চকক্ষে মোট সদস্য থাকবেন ১০০ জন। এটি সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে গঠিত হবে, অর্থাৎ পিআর পদ্ধতিতে।
ধরা যাক কোনো দল জাতীয়ভাবে ৪০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে তারা উচ্চকক্ষে পাবে ৪০টি আসন। আবার ১ শতাংশ ভোট পেলে মিলবে ১টি আসন। এভাবে ভোটের অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

উচ্চকক্ষ গঠনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারিত হবে সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের মাধ্যমে। এতে সরাসরি নির্বাচন, পরোক্ষ নির্বাচন কিংবা বিশেষজ্ঞ, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনয়ন ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

উচ্চকক্ষের মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
সংসদের ভূমিকা ও কার্যপ্রণালি
বাংলাদেশের সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এখানেই বিল উত্থাপন, আলোচনা ও ভোটের মাধ্যমে আইন পাস হয়। কোনো কর আরোপ বা সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

সংসদে একজন স্পিকার এবং এক বা একাধিক ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

আইন পাসের আগে বিল আকারে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তা নিয়ে আলোচনা, সংশোধন ও ভোটাভুটির পর অনুমোদিত হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন হয়।

কোরাম ও সংবিধান সংশোধন
সংসদের বৈধ অধিবেশনের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি, অর্থাৎ কোরাম নিশ্চিত করতে হয়।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট প্রয়োজন হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনে দুই কক্ষের সম্মিলিত ভূমিকা থাকবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এই নতুন সংসদব্যবস্থা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আরও ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, সংশোধিত কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট