1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালীতে খাল খননের নামে কোটি টাকা লুটের অভিযোগ, সদরের পিআইওকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ,

কামরুল হাসান-অনুসন্ধানী প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নোয়াখালী সদর উপজেলায় চলমান খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকদের বদলে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন ব্যবহার করে খাল খননের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, খননকাজের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির শত শত ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। অনেকের ঘরবাড়ি, টয়লেট, বাউন্ডারি ওয়াল ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে কৃষি সেচ উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নোয়াখালী সদরের চরমটুয়া, কালাদরাপ, দাদপুর ও নোয়ান্নই ইউনিয়নের পাঁচটি খালের প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ওয়েজ কস্ট ও নন-ওয়েজ কস্ট মিলিয়ে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ৩ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সরকারি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, প্রকল্পের কাজে স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে এবং নির্ধারিত ৪৩ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকের পরিবর্তে একাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, খাল খননের আগে তাদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ মাইকিং করে খালের পাশের গাছপালা ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকারি উদ্যোগে তা ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কারণে খালের পাশের সড়ক ও বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কোথাও কোথাও খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা নষ্ট করে মাটি ফেলে খাল সংকুচিত করার অভিযোগও উঠেছে।

এনআইডি সংগ্রহ ও ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিক নিয়োগের কথা বলে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে ওয়েজ কস্টের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, প্রকল্পে বাস্তবে যে পরিমাণ কাজ হচ্ছে তাতে মোট বরাদ্দের সামান্য অংশ খরচ হলেও বাকি অর্থ মাস্টার রোল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিপাকে পিআইও-
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম মিয়াজী নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে সাংবাদিকরা প্রকল্পে শ্রমিক না থাকা এবং ভেকু ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। শ্রমিকদের তালিকা, ব্যাংক হিসাব, মাস্টার রোল ও নন-ওয়েজ কস্ট সংক্রান্ত নথিপত্র চাইলে সেগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন,
“সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কাজ শুরুর পর কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। পিআইওসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিষয়গুলো সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ভেকু ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট