1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

ডিপিএস খোলার কথা বলে তালাকনামায় স্ত্রীর সই, আটক স্বামী-‘ভুয়া কাজী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের মাত্র তিনদিনের মাথায় ব্যাংকে ডিপিএস খোলার কথা বলে নববধূর কাছ থেকে তালাকনামায় সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও কথিত এক ভুয়া কাজীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলে বৈধ কাজী, স্বামী, শ্বশুর ও সাক্ষীসহ কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হলেও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কথিত ভুয়া কাজী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী তরুণী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আসল কাজীর পরিবর্তে এক ভুয়া ব্যক্তিকে দিয়ে তালাক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পশ্চিম দামোদরপুর ইউনিয়নের কচুয়া পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে চাম্পা খাতুনের সঙ্গে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে কুদ্দুস মিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয় ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর। বিয়েতে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের তিনদিন পর চাম্পা খাতুনকে ব্যাংকে ডিপিএস খোলার কথা বলে একটি কাগজে সই করানো হয়।

পরে তিনি জানতে পারেন সেটি ছিল তালাকনামা। চাম্পার দাবি, তার স্বামী কুদ্দুস মিয়া, শ্বশুর, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি সরকারি রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে সই নেন।

পরে চাম্পাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে তালাকের বিষয়টি জানানো হয়।

সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর চাম্পা খাতুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ, স্বামী কুদ্দুস মিয়া, তার বাবা ও দুই সাক্ষীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পরে জামিন নিতে আদালতে হাজির হলে গত ২৯ এপ্রিল গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত, সাদুল্লাপুর) পাপড়ি বড়ুয়া তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার মূল সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন সরকারি অনুমোদিত কাজী না হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে এখনো বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাজী আব্দুল হামিদের সহযোগিতায় সরকারি রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে নলডাঙ্গা ইউনিয়নে বিয়ে ও তালাকের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আগে থেকেই সরকারি রেজিস্ট্রি বইয়ে সিল-স্বাক্ষর নিয়ে পরে সেগুলো ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতেন তিনি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, দামোদরপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈধ কাজী মাওলানা আব্দুল হামিদ পাশের নলডাঙ্গা ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেও নিজে দায়িত্ব পালন না করে নিকাহ রেজিস্ট্রি বই সাজ্জাদ হোসেনের হাতে তুলে দেন।

অথচ নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকা ছাড়া অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনা, বই অন্যের কাছে হস্তান্তর কিংবা সহকারী দিয়ে কাজ করানোর কোনো বিধান নেই।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একটি ভিডিও হাতে পেয়েছে সংবাদকর্মীরা। ভিডিওতে দেখা যায়, বাবা-মা ছাড়াই চাম্পা খাতুনকে বিভিন্ন কথা বুঝিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রি বইয়ে সই নেওয়ার চেষ্টা করছেন সাজ্জাদ হোসেন।

ভুক্তভোগী চাম্পা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী ডিপিএসের কথা বলে সই নিছে। আমি জানতাম না তালাকের কাগজে সই নেওয়া হবে। সাজ্জাদ কাজী আর মেম্বাররা টাকা খেয়ে এসব করছে। যারা আমার নতুন সংসার নষ্ট করছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।”

চাম্পার মা জাহানারা বেগম বলেন, “হঠাৎ দেখি বিয়ের তিনদিন পর মেয়ে বাড়িতে। জামাইকে ফোন দিলে বলে তালাক দিছে। এরপর আর ফোন না দিতে বলে।”

চাম্পার বাবা চাঁন মিয়া বলেন, “আমরা কিছুই জানতাম না। যারা আমার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিচার চাই।

দেনমোহরের টাকাও চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুদ্দুস মিয়ার মা খতেজা বেগম বলেন, “মেয়ে নিজে থেকেই সংসার করতে চায়নি। আমার ছেলে সংসার করতে চেয়েছিল।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন নিজেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজীর সহকারী দাবি করে বলেন, “সেদিন অন্তত মেয়ের বাবা-মাকে ডাকা উচিত ছিল। দেনমোহরের টাকা বুঝিয়ে দেওয়াও উচিত ছিল। এই দুইটা ভুল হয়েছে।”

তবে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিস বলেন, “সরকারি লোক না হয়েও কীভাবে একজন রেজিস্ট্রি বই নিয়ে এসব কাজ করে? এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।”

গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজী ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে বা তালাকের কাজ করতে পারেন না। আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট