1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

৯৪ অ্যাকাউন্টে শত কোটি লেনদেন, দুদকের জালে জাহাঙ্গীর আলম

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ ও অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেন নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সওজের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ৯৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৯ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে কক্সবাজার জোনে মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সওজের প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে কর্মরত।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি আয়কর নথিতে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিলেও দুদকের যাচাইয়ে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৩১ কোটিরও বেশি।

সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ কোটি টাকার সম্পদ তার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত সময়ে মোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা জমা এবং ৪৮ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব লেনদেনের বৈধ উৎসের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি অর্থের উৎস গোপন করতে বিভিন্ন হিসাবে বারবার জমা-উত্তোলনের মাধ্যমে ‘লায়ারিং’ প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

তদন্তে আরও জানা যায়, তার নামে ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২টি আমানত হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। অথচ ২০১৫ সালে প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর থেকে তার বেতন-ভাতা বাবদ জমা হয়েছে মাত্র ৯৮ লাখ টাকা।

দুদক ইতোমধ্যে তার ব্যাংক হিসাবের স্থিতি জব্দ করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তার ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় পৃথক দুটি মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি পুরোনো এবং তিনি এ সম্পর্কে অবগত নন। তার দাবি, ব্যাংক হিসাবে অল্প অঙ্কের বারবার লেনদেন বড় অঙ্ক হিসেবে দেখানো হতে পারে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট