মাত্র ৮০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের একজন ৫ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা।
চাকরিজীবনে বৈধ আয়ের হিসাব মিলিয়ে মোট আয় আনুমানিক ৮০ লাখ টাকা। অথচ তার ও পরিবারের নামে পাওয়া গেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য—যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও তদন্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) শাহ মোহাম্মদ মারুফ-এর বিরুদ্ধে এই বিস্ময়কর সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে।
কর গোয়েন্দা ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
বারিধারায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট
রাজধানীর অভিজাত বারিধারা কূটনৈতিক জোনে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন মারুফ।
ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রীর নামে কেনা হলেও আয়কর জটিলতার কারণে এখনো নিবন্ধন হয়নি বলে জানা গেছে। ভবন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফ্ল্যাটটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাতেই ব্যয় হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
আয়-সম্পদের গরমিল
মারুফ তার আয়কর নথিতে মোট ৪ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ দেখালেও অনুসন্ধানে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। তার স্ত্রী সাদিয়া আফরিনের নামে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা দিয়ে ১২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনার মতো বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের তীর যেখানে
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে কর ফাঁকিতে সহায়তার মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ অর্জন করেছেন মারুফ।
তিনি বর্তমানে বগুড়া কর অঞ্চলের সিরাজগঞ্জ সার্কেলে কর্মরত আছেন।
তদন্ত চলছে
কর গোয়েন্দা ইউনিটের কমিশনার আব্দুর রকিব তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্নীতির এটি একটি উদাহরণ।
দোষ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াও দুদকের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাবেক আয়কর কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৈধ পথে একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শাহ মোহাম্মদ মারুফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বাসভবনে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।