1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

ডিএনএ পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর মোড়: ধর্ষণ মামলায় নিরপরাধ ইমাম অব্যাহতি, আসল অভিযুক্ত ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড় ধরনের চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। একই সঙ্গে প্রকৃত অভিযুক্ত হিসেবে কিশোরীর আপন বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তদন্তে জানা যায়, মামলার শুরুতে ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তান তার ডিএনএর সঙ্গে মেলেনি। বরং পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে বড় ভাই মোরশেদের জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম এক পর্যায়ে স্বীকার করে যে, তার আপন ভাই মোরশেদই দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবার পরিকল্পিতভাবে ইমাম মোজাফফরের ওপর দোষ চাপায়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০ মে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অপরাধ স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার ভিত্তিতে তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন এবং চাকরি ও ইমামতির দায়িত্ব হারান বলে অভিযোগ করেন।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিকটিমের শরীর থেকে পাওয়া নমুনায় বীর্যের উপস্থিতি না পাওয়ায় শুরুতে মোজাফফরের ডিএনএ মিলানো সম্ভব হয়নি। পরে ভিকটিম ও তার সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় আসল সত্য উদঘাটিত হয়।

তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, “আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। চাকরি হারিয়েছি, জেল খেটেছি। আমি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

স্থানীয় আলেম ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় করার পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকি সামনে নিয়ে আসে।

পরশুরাম থানার ওসি জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নিরপরাধ ব্যক্তির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সূত্র: স্থানীয় তদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট