নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন শরীফপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর সাব-সেন্টারে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী (টিকাদানকারী) হুমায়ুন কবির মিলনকে ঘিরে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ এপ্রিলসহ বিভিন্ন সময়ে তিনি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি টিকাদান কর্মসূচির দিনেও দায়িত্ব পালন না করে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর হামের টিকাদান কার্যক্রম ছেড়ে দেন।
এ সময় টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী নাজমা আক্তার, যিনি মিলনের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি অবস্থা জারি করে সকল ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বে অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, নতুন যোগদান করা স্বাস্থ্য সহকারীদের কাছ থেকে ‘সার্ভিস বুক’ সংক্রান্ত নানা অজুহাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে মিলনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন, যেখানে প্রকৃত খরচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি নয়। জানা গেছে, মোট ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জনই চাকরি টিকিয়ে রাখার ভয়ে এই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইতোমধ্যে ঘুষ লেনদেন ও অনুপস্থিতি সংক্রান্ত একাধিক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা হাসান খায়ের চৌধুরী জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা অনুপস্থিতির তথ্য এখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত এই স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি বিএনপি করি, দল করি,” এবং নিজেকে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়দের মতে, এমন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।