বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) মো. আহম্মদুল্লাহকে সম্প্রতি বদলি করা হলেও, তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ১৩ মে তাকে বিপিসি থেকে বদলি করে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঢাকার লিয়াজো অফিসে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ‘দুর্নীতির আতুরঘর’-এ পরিণত করেছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ে চাকরি ও ক্ষমতার উত্থান-
২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগদান করেন মো. আহম্মদুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি চাকরি পান। তিনি চেয়ারম্যানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া নিজ জেলা ঝালকাঠি হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন তিনি। চাকরির সময় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রত্যয়নপত্রও জমা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ-
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের পিএস পদ ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি, বিলাসবহুল বাড়ি, রেস্টুরেন্ট, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে একটি প্লটের দলিলের তথ্যও সামনে এসেছে। ওই জমিতে বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। যদিও দলিলে মালিকানা তার স্ত্রীর নামে, সেখানে এখনো বাশার গ্রুপের মালিক আবুল বশর আবুর সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে।
বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও মাসোহারা অভিযোগ-
বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন আহম্মদুল্লাহ। বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিপো থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া জ্বালানি খাতে বিভিন্ন প্রকল্প, আমদানি অনুমোদন, ব্যাংকে এফডিআর ও এসএনডি হিসাব পরিচালনায় অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ-
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন একই পদে বহাল ছিলেন তিনি। এমনকি ২০২১ সালে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও একদিনের মধ্যেই সেই আদেশ বাতিল করিয়ে পুনরায় আগের পদে ফিরে আসেন।
বিপিসির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ গাড়িও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি কিংবা চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুদকে সম্পদের হিসাব জমা-
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তবে তার বিরুদ্ধে হওয়া অনুসন্ধানের অগ্রগতি এখনো প্রকাশ হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মো. আহম্মদুল্লাহর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।