1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

সাবেক এমপি নিজাম হাজারীর ছত্রছায়ায় দুর্নীতির পাহাড়: ফেনী পৌরসভার প্রকৌশলী সুমনের ২৬ বছরের সাম্রাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ফেনী পৌরসভায় একই পদে কর্মরত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সুমন—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এবং অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন সুমন। নিজেকে এমপির আত্মীয় দাবি করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন।

এ কারণে একাধিকবার বদলির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফেনী পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার ও কোটেশন ছাড়াই শতকোটি টাকার কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। মাস্টার রোলে অবৈধ নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সুমন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা শরাফত উল্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

এছাড়া পৌরসভার সেবা সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি খাতে ঘুষকে নিয়মে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। নতুন হোল্ডিং, মিউটেশন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ভবনের নকশা অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্স পেতে গ্রাহকদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হাট-বাজার ইজারা, ভূমি লিজ, দোকান বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতের কোটি কোটি টাকা পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রিকশা ও সিএনজি লাইসেন্স প্রদানেও নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন বাবদ ভুয়া বিল দেখিয়ে প্রতি বছর কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ‘সুইপার বিল’ নামে দীর্ঘ ১০ বছরে ১৫-২০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কাজ শেষে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিল বাড়িয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করতেন সুমন। এ প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠে তার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

অবৈধ আয়ের মাধ্যমে ফেনী শহরের পূর্ব উকিল পাড়ায় ‘আনোয়ার ম্যানশন’ নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ও তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় আসা গ্রাহকদের তার ব্যক্তিগত অফিসের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সুমনের দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন সুমন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে কী আর কথা বলবো, আপনারা তো আমাদের দুদকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।” পরে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট