জালিয়াতির মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন অন্তত ১২ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে উপসচিব ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ও জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার তথ্য পেয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ২৯তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত ৬ জন জালিয়াতির মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, ফল প্রকাশের প্রায় ৬ মাস পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা দেখিয়ে তারা নিয়োগ নিশ্চিত করেন, যদিও সে সময় ওই কোটায় কোনো শূন্যপদ ছিল না।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপসচিব নাহিদা বারিক, রকিবুর রহমান খান, তোফাজ্জেল হোসেন এবং পুলিশ সুপার খোরশেদ আলমসহ আরও কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
এদিকে, ৩৮ ও ৪১তম বিসিএসে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেয়ার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
একই ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চাচাকে নিজের বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নেন। বিষয়টি প্রমাণিত হলে জামিন নিতে গিয়ে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “শুধু বিসিএস ক্যাডার নয়, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।”
দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, “জালিয়াতির মাধ্যমে যারা বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যই থাকে অনৈতিক সুবিধা নেয়া। তাই তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।”
অন্যদিকে, পিএসসির সাবেক ড্রাইভার আবেদ আলীর সহযোগিতায় চাকরি নেয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেয়া ব্যক্তিদের শুধু চাকরিচ্যুত করাই নয়, তাদের নেয়া বেতন-ভাতাসহ সব আর্থিক সুবিধা ফেরত নেয়ার পাশাপাশি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।