লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অফিসে বসে ফাইল আটকে রেখে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকার বান্ডিল গ্রহণের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইজিপি (e-GP) টেন্ডারের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার এক ঠিকাদার একটি সড়ক নির্মাণের কাজ পান। কাজ শেষে বিলের নথিপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখার পর বাধ্য হয়ে ওই ঠিকাদার তাকে চাহিদামতো টাকা দিতে সম্মত হন।
ভাইরাল হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী ঠিকাদারকে উদ্দেশ করে বলছেন, “আপনারা বসেন, বিল রেডি করিতেছি, এখনই সই করে দিচ্ছি।” এরপর ঠিকাদারের দেওয়া টাকার বান্ডিলটি তিনি গুনে নিজের প্যান্টের পকেটে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাওয়ার পরই তিনি ফাইল ছাড়তে রাজি হন। পুরো ঘটনাটি ঠিকাদার কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন।
জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি মোহাম্মদ আলীর সাবেক কর্মস্থল মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় কর্মরত থাকার সময়ের। বিষয়টি তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, এর আগেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় মোহাম্মদ আলীকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে কমলনগরে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি কমলনগর উপজেলা এলজিইডিতে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে নতুন কর্মস্থলে তার পুরোনো ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় অফিসপাড়াসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এছাড়া কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল কাদের মোজাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ