1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

২৯ তম ব্যাচের ভুয়া বিসিএস কর্মকর্তা মমতাজ বেগম।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

২৯–৩১তম বিসিএসে অনিয়ম: ৯৫ ‘ভুয়া ক্যাডার’ শনাক্ত

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তত ৯৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালিয়ে এসব নিয়োগে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আরও শতাধিক নিয়োগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

কীভাবে ঘটেছে অনিয়ম-

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘Age, Qualification and Examination for Direct Recruitment Rules-1982’ সংশোধন করে একটি এসআরও জারি করে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, পিএসসির সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ মেডিকেলে অনুপস্থিত থাকলে তাদের স্থলে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।

অভিযোগ আছে, এই বিধানকে কাজে লাগিয়ে ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে পিএসসির সুপারিশ ছাড়া প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি যেসব প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই করেননি, তাদের নামেও ভুয়া সনদ তৈরি করে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

৯৫ জনের মধ্যে ৬৮ জনের তথ্য হাতে
নিজস্ব অনুসন্ধানে ৯৫ জনের মধ্যে ৬৮ জনের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে একটি গণমাধ্যম। তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে। নিয়োগ পাওয়া অনেকেই মেধাতালিকায় পিছিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২৯তম বিসিএস: ২৯ জন
২০১১ সালের ১০ জুলাই ২৯তম বিসিএসে ১৪৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ১৩ মাস পর ২০১২ সালের ১২ আগস্ট আরও ২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও আটজন যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, এই ২৯ জনের ক্ষেত্রে পিএসসির কোনো সুপারিশ ছিল না।

প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, শুল্ক ও আবগারি, কর, অর্থনৈতিক, পরিবার পরিকল্পনা, পররাষ্ট্র ও শিক্ষা ক্যাডারে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।
ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা
২৯তম বিসিএসে নিয়োগ-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় ছয়জনকে অবৈধভাবে নিয়োগের প্রমাণ পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মামলা করেছে দুদক। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রশাসন, পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রয়েছেন।

দুদকের ভাষ্য, ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর জাল সনদের মাধ্যমে এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান/সদস্য, সাবেক সচিব, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
৩০তম বিসিএস: ৩১ জন
২০১২ সালের ১৭ মে ৩০তম বিসিএসে ২২৬১ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস পর পিএসসির সুপারিশ ছাড়াই ১৯ জন নিয়োগ পান। পরে আরও কয়েকজন যুক্ত হন। সব মিলিয়ে ৩১ জনের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, নিরীক্ষা ও হিসাব, শুল্ক ও আবগারি, পরিবার পরিকল্পনা এবং তথ্য ক্যাডারে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।
৩১তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৩১তম বিসিএসে ১৮১২ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পান। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আরও ২৩ জন এবং পরে সংশোধিত এসআরও ব্যবহার করে আরও ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মোট ৩৫ জনের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয়েছে প্রশাসন ক্যাডারে, এরপর পুলিশ ক্যাডারে।

অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বিধি লঙ্ঘন নয়, এসব নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিয়োগ কর্তৃপক্ষ এবং সুবিধাভোগী—উভয় পক্ষকেই জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

পিএসসির বক্তব্য-

বিষয়টি জানতে চাইলে পিএসসির সচিব বলেন, ৯৫ ভুয়া ক্যাডার শনাক্তের বিষয়ে দুদক থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।)

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট