নোয়াখালী: নোয়াখালী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়ালী উল্লাহসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পভিত্তিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে একজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রটি সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হয়েছে। টিটিসি প্রকল্পের আওতায় পূর্বনির্ধারিত কক্ষ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বড় আকারের বিলাসবহুল অধ্যক্ষ কক্ষ নির্মাণে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ ব্যয় পিডিও (PDO) তহবিল থেকে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অতিরিক্ত বিল প্রদর্শন, বিভিন্ন সময়ে গেস্ট স্পিকারের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ-
SICIP প্রকল্পের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সীমিত প্রচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজনকে যোগ্যতার শর্ত পূরণ ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে বা প্রকল্পে একযোগে কর্মরত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, পিডিও ও Takamol সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন হয়েছে। কিছু বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে এড়িয়ে যাওয়া ও বদলির তদবিরের অভিযোগ-
অভিযোগটি গণমাধ্যমের হাতে আসার পর অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যান এবং সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, দুর্নীতির বিষয়টি গণমাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পরই তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির ও লবিং শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে বদলির জন্য তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এ জন্য মোটা অংকের অর্থ দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তদন্তের দাবি-
অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা এবং বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।