ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
জানা যায়, আকরাম হোসেন ২০০৩ সালে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৩ সালে এএসআই এবং ২০১৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে এসআই হন। অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন।
বাড়ি, জমি ও গাড়ির পাহাড়
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ছয় থেকে সাত বছরে আকরাম হোসেন ময়মনসিংহ শহরের পুলিশ লাইনের সামনে একটি পাঁচতলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘স্বর্ণকমল’ নামে পরিচিত। এছাড়া মুক্তাগাছায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, জামালপুর সদরের নান্দিনা বাজার ও নিজ গ্রামে কৃষিজমি, তিনটি প্রাইভেট কার এবং বিপুল নগদ অর্থের মালিক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে অভিযোগে। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ প্রবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি পুলিশ প্রবিধান ১১২(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এই ধারায় আইজিপির পূর্বানুমতি ছাড়া নিজ জেলা ছাড়া অন্যত্র নিজের বা আত্মীয়স্বজনের নামে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কেনা নিষিদ্ধ।
জামালপুরের নান্দিনায় বোনের নামে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি কেনা হলেও প্রকৃত মালিক আকরাম হোসেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর এক স্বজন।
একাধিক অভিযোগ ও মামলার তথ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরি জীবনের প্রায় আট বছর তিনি ময়মনসিংহ জেলায় কর্মরত ছিলেন। ভালুকা ও ময়মনসিংহ ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় দুই পুলিশ সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এসআই আকরাম হোসেনের নামে আইজিপি বরাবরে অন্তত আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
ক্রসফায়ারের মামলাও আদালতে
২০১৮ সালের একটি কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনায় এসআই আকরাম হোসেনসহ ১৭ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। নিহত রাজনের বাবা হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ সদর আমলি আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় রাজনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এসআই আকরাম হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি গত চার বছর ধরে জেলার বাইরে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছি। বাড়ি নির্মাণ করা কোনো অপরাধ নয়।”
এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান ও আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।