1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন

অনুদানের টাকায় নির্বাচন করবেন জামায়াতের সাইয়েদ আহমদ- কোটিপতি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী

হিমেল আহাম্মেদ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক সক্ষমতায় স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান দুজনই কোটিপতি ব্যবসায়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ নির্বাচনি ব্যয় মেটাবেন দান-অনুদানের অর্থে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তিন প্রার্থীর হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

আয়ের হিসাব-

হলফনামা অনুযায়ী, এমএ পাস বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। অন্যদিকে এসএসসি পাস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় তিন কোটি ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা।

অন্যদিকে কামিল পাস জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার বার্ষিক আয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা।

সম্পদের বিবরণ-

জয়নুল আবদিন ফারুকের অস্থাবর সম্পদের বাজারমূল্য ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭৮ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ চার লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কাজী মো. মফিজুর রহমানের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪১ কোটি ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৭ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য আট কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৯ টাকা।
অন্যদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদের অস্থাবর সম্পদ ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং ২২ শতাংশ কৃষি জমির মালিকানা রয়েছে, যার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।

নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা-

জয়নুল আবদিন ফারুকের হাতে নগদ আছে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ১০৪ টাকা।
কাজী মো. মফিজুর রহমানের হাতে নগদ আছে দুই কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ টাকা।

মাওলানা সাইয়েদ আহমদের হাতে নগদ চার লাখ ৫ হাজার ৭৩০ টাকা এবং ব্যাংকে জমা তিন লাখ ৭৬ হাজার ৯ টাকা রয়েছে।

আয়ের উৎস-

জয়নুল আবদিন ফারুক বছরে চাকরি থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক সুদ ও সম্মানী ভাতা থেকে চার লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা আয় করেন।
কাজী মো. মফিজুর রহমান কৃষিখাত, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী এবং ব্যাংক সুদসহ একাধিক খাত থেকে আয় করেন।
অন্যদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদের একমাত্র আয় কৃষিখাত থেকে বছরে ৩০ হাজার টাকা।
দান-অনুদানে নির্বাচনি ব্যয়
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাওলানা সাইয়েদ আহমদ আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে দান-অনুদান নিয়ে নির্বাচনি ব্যয় পরিচালনা করবেন।
সম্ভাব্য অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, শ্যালক ব্যবসায়ী গোলাম মর্তুজা, ইতালি প্রবাসী বেয়াই মাঈন উদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী। এসব উৎস থেকে মোট প্রায় ৩১ লাখ টাকার অনুদান পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা সংক্রান্ত তথ্য
বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১টি মামলা।
জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৯টি মামলা।

পরিচিতি-

জয়নুল আবদিন ফারুক সেনবাগ উপজেলার ছমির মুন্সির হাট এলাকার ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
কাজী মো. মফিজুর রহমান একই উপজেলার পরিকোট এলাকার বাসিন্দা।
মাওলানা সাইয়েদ আহমদ সোনাইমুড়ী উপজেলার মহেসগঞ্জ এলাকার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভোটার তথ্য-
নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি এবং ভোটকক্ষ ৭০০টি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট