মাত্র ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাওয়া এক সাব রেজিস্ট্রারের গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসিক ব্যয় ৭০ হাজার টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সেবা গ্রহীতা ও কার্যালয়ের একাধিক স্টাফ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাব রেজিস্টার নুসরাত জাহান যে গাড়িটি ব্যবহার করছেন তার নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-গ-১২-০৭৩৪। গাড়িটি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হাতিয়া এলাকার বখতিয়ার রহমান রানার নামে নিবন্ধিত। গাড়ির চালক আল-আমিন। কর্মদিবসে শহরের ভাড়া বাসা থেকে এ গাড়িতেই তিনি নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া তার বাসা ভাড়া বাবদ মাসিক খরচ ১৮ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
সাব রেজিস্টার নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও অফিসের কর্মচারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এজলাসে না বসে খাস কামরায় বসে দলিল সম্পাদন করেন এবং সেখানে ঘুস লেনদেন সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী ও স্টাফদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব রেজিস্টার অফিসের এক মহুরির মাধ্যমে ঘুসের টাকা আদায় করেন। উপজেলায় মোট ১৩০ জন দলিল লেখক কাজ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি দলিলের জন্য সাব রেজিস্টার কমপক্ষে এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত নেন। অনেক ক্ষেত্রে অহেতুক ভুল দেখিয়ে আরও এক থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়। বড় দলিলের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়।
তাদের দাবি, মাসে গড়ে প্রায় ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসাবে প্রতি মাসে ঘুসের পরিমাণ কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সেবা গ্রহীতাদের খাস কামরায় ডেকে নিয়ে তিন হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে মহুরির মাধ্যমে দুই হাজার টাকা ঘুস দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করাতে বাধ্য হন অনেকে।
দলিলের জাবেদা নকল তুলতেও দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অথচ অন্য উপজেলায় দলিলের স্লিপের সরকারি ফি ১০০ টাকা এবং জাবেদা তুলতে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকার বেশি লাগে না। এসবের বাইরে ছোটখাটো ভুল দেখিয়ে এবং সরকারি ফির বাইরে প্রতিটি দলিলে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে সাব রেজিস্টার কার্যালয়ের এক মহুরি বলেন, “আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। এখানে কোনো ধরনের বাড়তি লেনদেন হয় না। নির্ধারিত খরচেই দলিল সম্পন্ন হয়।”
ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সাব রেজিস্টার নুসরাত জাহান বলেন, “কিছু লোক অহেতুক সুযোগ-সুবিধা চান। তা না দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে অপপ্রচার করেন। দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সব খুঁটিনাটি যাচাই করা প্রয়োজন, না হলে ক্রেতা-বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।”
গাড়ি ভাড়া করে অফিসে যাতায়াতের বিষয়ে তিনি বলেন, “জেলা শহর থেকে উপজেলার দূরত্ব বেশি। তাই মাঝে মাঝে গাড়ি ভাড়া করে আসা-যাওয়া করতে হয়।”
খাস কামরায় বসে দলিল রেজিস্ট্রি করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সরকারি ফির বাইরে কোনো ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।