এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির এক যুগ্ম সদস্য সচিব। সেই সাথে তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ তথ্য জানান।
এনসিপির জন্য অনেক বড় ধাক্কা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারার পদত্যাগ। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে দলটি। আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হচ্ছে কেন দল ছাড়লেন আলোচিত এ নেত্রী ডা. তাসনিম জারা? যেসব বিষয় এখন আলোচনায় উঠে আসছে সেগুলো হলো দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঁদাবাজির অভিযোগ যা তিনি নিতে পারছিলেন না। এছাড়া জামায়াতের সাথে জোট করার ক্ষেত্রে তিনি চরম বিরোধিতা করছিলেন। আরো কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া দলে তার স্বামীকে নিয়েও কিছু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
তাসনিম জারা জানান, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তার সিদ্ধান্ত নয়। তিনি জনগণকে ওয়াদা করেছেন যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য লড়বেন। তাই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।
তিনি বলেন, দলবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে স্থানীয় অফিস, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার এই সুবিধা থাকবে না। একমাত্র ভরসা হবে সাধারণ মানুষ এবং তাদের সমর্থন।
তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর প্রয়োজন। আগামীকাল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় যারা অর্থ দান করেছিলেন, তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে যারা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের জন্য একটি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। বিকাশ বা ব্যাংকের মাধ্যমে দান করা অর্থ ফেরতের বিস্তারিত নির্দেশনা ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নতুন রাজনীতির উদাহরণ স্থাপন করতে চান এবং জনগণের সততা ও সমর্থনের ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখছেন।