রাজনীতি ডেস্ক-
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে চলমান আসন বণ্টন আলোচনার কারণে বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩৭টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৬টি আসনে প্রার্থী দেয় দলটি। তবে ঘোষিত এই তালিকা চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি একাধিক বক্তব্যে মনোনয়নে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত শরিক দলগুলোর সঙ্গে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হওয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
আসন বণ্টনে জটিলতা
গত কয়েক দিনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, শহীদ উদ্দিন স্বপনসহ কয়েকজন নেতার আসন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস প্রার্থী থাকায় বিকল্প হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সাইফুল হক বলেন,
> “আজ রাতে আমাদের বসার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আগামী শনিবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে বৈঠক হবে। আলোচনা চলছে, আশা করি সমাধান হবে।”
সর্বোচ্চ ২৫ আসন ছাড়তে পারে বিএনপি
দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বিএনপি সর্বোচ্চ ২৫টি আসন যুগপৎ শরিকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের বাইরে ঝুঁকি নিতে বিএনপি অনাগ্রহী।
তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
> “আমরা দুই দফায় প্রার্থী তালিকা দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত তালিকা দেওয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে।”
১৩–১৭টি আসনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বিএনপি নেতাদের মতে, ঘোষিত তালিকার মধ্যে ১৩ থেকে ১৭টি আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। অভিযোগ যাচাই, সাংগঠনিক বাস্তবতা ও যুগপৎ রাজনীতির ধারা বজায় রাখতে সমমনা দলগুলোর প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে কিছু আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন,
> “আগামী নির্বাচন অনেক কঠিন। সিদ্ধান্ত নিতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।”
জোট রাজনীতিতে ভাঙনের শঙ্কা
গণতন্ত্র মঞ্চের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা বাড়লে গণতন্ত্র মঞ্চে ভাঙন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বিএনপির কিছু সমমনা দলও বিরোধী অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে— জামায়াতে ইসলামী মৌন সমর্থনভিত্তিক নির্বাচনি সমঝোতার লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সাবেক বিএনপি-জোটের একটি দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।