কক্সবাজারের টেকনাফে নামাজরত শাশুড়িকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পূর্বপাড়ার নতুন মসজিদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম মনোয়ারা বেগম (৪৫)। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জাহাজপুরা এলাকার মো. রফিকের স্ত্রী। অভিযুক্ত পুত্রবধূ ছেনোয়ারা বেগম (২২)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের হাতলযুক্ত একটি দা জব্দ করে।
নিহতের ছেলে মো. ইদ্রিস জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার দুপুরে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। এ সময় তার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ঘরে নামাজরত অবস্থায় তার মায়ের ওপর দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেন। হামলার পর ব্যবহৃত দা ঘরের চালের ওপর ছুড়ে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মায়ের গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পাঁচ দিন আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে ছেনোয়ারা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেন। পরদিন স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি এই হামলা চালান বলে দাবি স্থানীয়দের।
একপর্যায়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ছেনোয়ারা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শাশুড়িকে দা দিয়ে কোপানোর কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস জানান, আটক আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।