প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীসহ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাস্টার।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নানের এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান শাহাদত, পৌর আমির মো. কাওছার হোসাইনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মাহাবুব মাস্টার বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, অবমূল্যায়ন ও বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন।
পদত্যাগপত্রে মাহাবুব মাস্টার উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি হামলা, মামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে দলের জন্য কাজ করেছেন। ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তিনি দল থেকে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণেই বিএনপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
পদত্যাগের আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহাবুব মাস্টার লেখেন,
“দেয়ার ছিল অনেক, দিয়েছিও অনেক, চাওয়া ছিল শুধু একটু মূল্যায়ন আর যোগ্য আসন। ব্যর্থতা কার? আমার?”
আরেকটি আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার তিনি রেখেছেন, তবে এখন সুবাতাস বইতে থাকায় হয়তো তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।
পরে পদত্যাগপত্র ফেসবুকে শেয়ার করে তিনি লেখেন,
“একজন নেতার ভয়ঙ্কর ইগো আর কতিপয় দালালের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ জিয়ার গড়া দল থেকে অব্যাহতি নিলাম। দীর্ঘ ৪৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
মাহাবুব মাস্টারের পদত্যাগ ও দলবদলকে কেন্দ্র করে বরিশাল ও বানারীপাড়া বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।