1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

ডিবি হারুনের ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের ঘনিষ্ঠ এবং বিভিন্ন মহলে তার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত বলে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েলের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে তার নিজ জেলা নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকায় একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নিজ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে জমি ও বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চাকরিজীবনের শুরুতে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বর্তমানে তিনি এলাকার অন্যতম সম্পদশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
তথ্য অনুসারে, মদন উপজেলায় তার বা তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে অন্তত ৮৭ শতক আয়তনের একটি বড় পুকুর রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরটি শান বাঁধানো এবং বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী এর মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া এলাকায় একটি আধুনিক তিনতলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। স্থানীয়দের মতে, ভবনটি নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এটি এলাকার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

মদন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক প্লটের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি ৫৭ শতক আয়তনের একটি জমির মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা, ২০ শতকের আরেকটি প্লটের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং ৩৯ শতকের একটি প্লটের মূল্য প্রায় ৫৮ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েলের স্ত্রীর নামে পরিচালিত ‘মারিহা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব লেনদেনের উৎস ও প্রকৃতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন-ভাতার সঙ্গে তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারা এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, জমি ক্রয়ের কাগজপত্র এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, কিছু সম্পদ আত্মীয়-স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামেও রাখা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো প্রকাশ্যে আদালতস্বীকৃত কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, আলোচিত সম্পদের অধিকাংশই পারিবারিকভাবে অর্জিত অথবা বৈধ উৎস থেকে কেনা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংস্থা তার আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করেছে এবং কোনো অনিয়ম পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে একটি মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং প্রচারিত অনেক তথ্য অতিরঞ্জিত।

অন্যদিকে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে আলোচনায় থাকা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৮৭ শতক আয়তনের একটি পুকুর, প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি তিনতলা ভবন, প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক প্লট, ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫৭ শতক জমি, ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২০ শতক জমি এবং ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের ৩৯ শতক জমি। এছাড়া ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ, অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের বক্তব্য একদিকে থাকলেও ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এখন সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধান, প্রাপ্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট