1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ভাইকে ২০ কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ খাদ্য অধিদপ্তরের পিডির বিরুদ্ধে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ভাইকে ২০ কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ খাদ্য অধিদপ্তরের পিডির বিরুদ্ধ

খাদ্য অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে নিজের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট-মংলা এলাকায় একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিবিধিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের নিকটাত্মীয়দের টেন্ডার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে আমিনুল ইসলাম তার ভাই, খালাতো ভাই ও ভাগিনার মাধ্যমে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে টেন্ডারে অংশ নেন এবং কার্যাদেশ নিশ্চিত করেন।

সূত্রগুলো দাবি করছে, টেন্ডারে অংশ নেওয়া একটি অভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করলেও তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এবং তুলনামূলক বেশি দর প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পটির জন্য প্রায় সাড়ে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ কোটি টাকার কিছু বেশি মূল্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে প্রায় পুরো বরাদ্দমল্যের কাছাকাছি অর্থে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করা এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

(উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।)

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট