চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আতঙ্কের নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’।
বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে প্রকাশ্যে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি।
একের পর এক এমন অভিযোগ সামনে এলেও এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি এই আলোচিত সন্ত্রাসী।
সর্বশেষ সোমবার (১৩ জুলাই) নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসে ডেভিড ইমনের নাম।
২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে হামলা
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার দুই দিন আগে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
হুমকিতে বলা হয়, চাঁদা না দিলে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কে এই ডেভিড ইমন?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে তার অন্যতম প্রধান অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর চট্টগ্রামে সাজ্জাদ গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।
তার বিরুদ্ধে জোড়া খুন, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ অন্তত সাতটি মামলার তথ্য রয়েছে। পুলিশ বলছে, ইমন অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ এবং তার কাছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
একের পর এক চাঁদাবাজির অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত এক মাসে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।
এর আগে,
এক সাংবাদিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
হাটহাজারীতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।
চান্দগাঁও এলাকার একটি পোশাক কারখানার সামনে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনাতেও এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদ গ্রুপে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে এবং তারা চট্টগ্রাম নগরী, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
কেন ধরা পড়ছে না?
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, মোবারক হোসেন ইমন একজন পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ডিডিএন প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
তিনি জানান, কল রেকর্ডে থাকা কণ্ঠস্বর সত্যিই ডেভিড ইমনের কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মগোপনে থাকায় এখনো তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তার অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।