রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যান্ত্রিক সহকারী (মেকানিক) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও জাকির হোসেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
ভুক্তভোগী এক সাংবাদিকের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত সংবাদ প্রকাশের পর জাকির হোসেন তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, জাকির হোসেন ও তার পরিবারের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্ত্রী মনিরা আক্তারের নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন ও স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার মালিবাগ ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় জাকির হোসেনের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত সম্পদের সন্ধান মিলেছে। পাশাপাশি তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলাতেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
রাজউকের একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, জাকির হোসেন অতীতে আলোচিত ‘গোল্ডেন মনির’ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হলে এর পেছনে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র সামনে আসতে পারে।
এ বিষয়ে জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
(প্রতিবেদনটি বিভিন্ন অভিযোগ, অনুসন্ধানী তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার।)