1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে তোলপাড়, ডা. তাপস পাল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটস্থ কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিহত সুলতানা মমতাজের (৩০) পরিবার চিকিৎসকদের অবহেলা, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার ঘাটতিকেই এ মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সুলতানা মমতাজ উপজেলার পেশকারহাট এলাকার লোমি মিয়াজি বাড়ির আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। পরিবারের দাবি, মায়ের মৃত্যুর পর সদ্যোজাত সন্তানটিও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৯ মে কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেসিয়ার অতিরিক্ত ডোজ এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সুলতানা মমতাজের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি ঘটে।

একপর্যায়ে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় রোগীকে সময়মতো সিপিআর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বে সিপিআর দেওয়ার কারণে তার মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ থাকে, যা পরবর্তীতে মারাত্মক ব্রেইন ড্যামেজের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

পরে তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল, রাজধানীর পপুলার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর গত ১ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, মেয়েকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা প্রায় ১২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতের বোন শাকিলা বলেন, “আমরা একটি সুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম। চিকিৎসা শেষে তাকে জীবিত ফিরিয়ে তো দেওয়া যায়ইনি, বরং দীর্ঘ যন্ত্রণার পর তাকে হারাতে হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. তাপস পাল বলেন, “আমি অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর সাময়িক সময়ের জন্য বাসায় গিয়েছিলাম। পরে রোগীর অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে হাসপাতালে ফিরে আসি।”
তবে তার এই বক্তব্য নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের প্রশ্ন, অপারেশনের পর রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কীভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে কার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল?
এছাড়া হাসপাতালটিতে কোনো পোস্ট-অপারেটিভ রুম নেই বলে ডা. তাপস পালের স্বীকারোক্তি হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. রোশন জাহান লাকি বলেন, “অপারেশন থেকে চামড়া সেলাই পর্যন্ত দায়িত্ব আমার। অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে চিকিৎসক হিসেবে দায় পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল মালিকপক্ষ এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সমঝোতার উদ্যোগ নেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান এবং একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন নিহতের মা।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, যদি হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত মনিটরিং সুবিধা এবং দায়িত্বশীল তদারকি নিশ্চিত থাকত, তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো কোনো সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “এই সামান্য টাকা দিয়ে হয়তো কিছু দেনা শোধ করা যাবে, কিন্তু আমাদের মেয়েকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন ট্র্যাজেডির শিকার না হয়।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট