নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত ব্যক্তি সাহেদ কামাল সুজন, যিনি স্থানীয়ভাবে “আল-ইত্তেহাদ সুজন” নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ, আমানত প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষের জীবনভর সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হাজারো মানুষের আমানতের টাকা নিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বসুরহাট বাজারে একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করা সুজন পরবর্তীতে “আল-ইত্তেহাদ” নাম ব্যবহার করে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বাহ্যিক চাকচিক্য, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন এবং সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতেন।
তার প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
১/আল-ইত্তেহাদ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হসপিটাল।
২/আল-ইত্তেহাদ জুয়েলার্স।
৩/আল-ইত্তেহাদ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ।
৪/আল-ইত্তেহাদ ডিজিটাল অফসেট প্রেস।
৫/আল-ইত্তেহাদ এন্টারপ্রাইজ (টাইলস শো-রুম)।
৬/আল-ইত্তেহাদ বিল্ডার্স এন্ড ডেভেলপারস লিঃ।
৭/আল-ইত্তেহাদ ফার্নিচার মার্ট (HATIL)।
৭/আল-ইত্তেহাদ ডেইরি ফার্ম
৭/আল-ইত্তেহাদ রড সিমেন্ট গ্যালারি।
৮/আল-ইত্তেহাদ হাউজিং লিমিটেড।
আল-ইত্তেহাদ ট্রেডার্স (ইলেকট্রনিক্স)
৯/সুফিয়া মোটরস
১০/উত্তরা মোটরস লিমিটেড (গাড়ি শো-রুম)
১১/BAJAJ সার্ভিসিং সেন্টার
১২/আল-ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশন
১৩/আল-ইত্তেহাদ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস
১৪/আল-ইত্তেহাদ মেটাল।
১৫/আল-ইত্তেহাদ পরিবহন।
১৬/আল-ইত্তেহাদ ড্রিংকিং ওয়াটার।
১৭/আল-ইত্তেহাদ ট্রেডার্স (ওয়ালটন ডিলার)।
এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বসুরহাট, বামনী বাজার, বাংলা বাজার, চাপ্রাশিরহাট, চৌধুরীরহাট, ভুঁইয়ার হাট ও কবিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত ছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, “এপিডিআর” ও “ডিপোজিট স্কিম”-এর নামে মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। শুরুতে নিয়মিত মুনাফা প্রদান করলেও পরে ধীরে ধীরে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লে বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থ, আবার কেউ মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার তথ্য উঠে আসে।
এ কারণে তিনি ক্লিন রিপোর্ট পাননি বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও তিনি “Organic Store” নামে একটি ই-কমার্স কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং পূর্বের “আল-ইত্তেহাদ” সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট
alittehadbd.com নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন।
ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ঠিকানা অনুযায়ী
আমেরিকায় তার অবস্থান: 1569 Ave, New York, NY 10028, USA।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল বলছেন, বিদেশে অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
একইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে সাহেদ কামাল সুজন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।