বিগত সরকারের আমলে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সশস্ত্র ভূমিকা পালন এবং গুম-অপহরণসহ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনী জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দেশের ১২টি জেলায় এসপি পদে রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে ফেনীতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাহবুব আলম খান চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক এক ছাত্রদল নেতার দুই ভাইকে গুম এবং অর্থ আদায়ের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ওই দুইজনের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বাদী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মাহবুব আলম চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় আন্দোলন দমনে তিনি সশস্ত্র অবস্থান নেন এবং নির্বিচারে সহিংসতার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়লেও বাকি দুটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রয়েছেন।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়লেও বাকি দুটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রয়েছেন।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শিবগঞ্জ থানার মামলা নং-২৫
(১৩/০৯/২০২৪), যেখানে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৬৪, ৩০২সহ একাধিক ধারা উল্লেখ রয়েছে
শিবগঞ্জ থানার মামলা নং-৫৪
(২০/১০/২০২৪), হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা
সিআর মামলা নং-৯০৪/২৪ (শিবগঞ্জ)
২৭তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মাহবুব আলম প্রায় পাঁচ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত ছিলেন। সে সময় বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত দমনে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে সরকারকে সন্তুষ্ট করে তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) অর্জন করেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
একদিকে ভুক্তভোগীরা তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছেন, অন্যদিকে তাকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করায় সচেতন মহলে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলায় এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার নিয়োগ জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুব আলম খান কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
↓
সূত্র: আমার দেশ-