দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় এসব মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। একই ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া, সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাংগা ও ফুলছড়ি এলাকায় বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ, তার চাচাতো ভাই শিশু রাফি এবং সাদুল্লাপুর উপজেলার আলী আকবর। অপর এক ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল জানান, দুপুরে বৃষ্টির সময় বাড়ির বারান্দায় খেলা করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় শিশু ফুয়াদ ও রাফি।
পরে তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে মাঠে কাজ করা মানুষজন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় অনেকেই বজ্রপাতে আক্রান্ত হন।
জামালপুরে তীব্র তাপদাহের পর কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিকেলে পৃথক দুই উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। বিকেল ৩টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার পশ্চিম কড়ইচুড়া গ্রামে মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি রাজিবের স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী।
অন্যদিকে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আকস্মিক বজ্রসহ বৃষ্টিপাতে জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে।