ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর অন্তর্গত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাকসুদুল আলম মাসুম দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নয়টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরবর্তীতে নতুন করে আরও দুটি মামলা যুক্ত হওয়ায় এখনো মুক্তি পাননি।
কারা সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, কারাবন্দি অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করেছে। তিনি একজন হৃদরোগী এবং চিকিৎসা পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ ব্লক ধরা পড়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সময়ও তাকে পায়ে শিকল ও হাতে দড়ি বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ একজন বন্দির ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণকে অমানবিক বলে দাবি করছেন স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ (UDHR) এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র। এসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে গুরুতর অসুস্থ বন্দির ক্ষেত্রে মানবিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় শিকল বা দড়ি ব্যবহারকে ‘Cruel, Inhuman and Degrading Treatment’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা আইনত সম্ভব হলেও একের পর এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলা যুক্ত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত আটকাবস্থা বজায় থাকা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এটিকে ‘Judicial Harassment’ বা ‘Process as Punishment’ বলা হয়, যেখানে শাস্তি রায়ের মাধ্যমে নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্যকর করা হয়।