1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

নিয়োগ বোর্ড ঠেকাতে বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগ ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহে নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টায় টিএইচএম বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে সকাল ৮টার দিকে বিভাগীয় সভাপতি ঝিনাইদহের বাসা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর বিভাগীয় সভাপতি ছাড়াই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডে লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দুপুরে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভাগীয় সভাপতি বোর্ডে উপস্থিত হননি। তবে সাহেদ আহম্মেদ দাবি করেছেন, তিনি শিক্ষককে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।
এদিকে শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হয়। অসুস্থতার কথা জানালেও বারবার ফোন আসায় তিনি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করেই তাকে নেওয়া হচ্ছে। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়িচালক ফোন করে তার অবস্থান জানতে চাইলে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করাতে চাচ্ছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। আমাকে ফোন করলে আমি তার নিরাপত্তার জন্য নিয়ে আসি এবং পরে বাড়িতে পৌঁছে দিই।”

তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে বিভাগীয় সভাপতিকে হুমকি দিয়েছেন এবং এর আগেও কয়েকজন শিক্ষককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ জোরপূর্বক মুছে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সকালে আমি ফোন দিয়েছিলাম। তিনি অসুস্থ বলে জানান। কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “তিনি সকালে অসুস্থতার কথা জানিয়ে বোর্ডে আসতে পারবেন না বলেছেন। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিত। অপহরণের বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ করেননি। নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।”
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট