1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

থানার পাশেই ছদ্মবেশে বসবাস, ৭ মাসে ৬ খুন!সাভারে সিরিয়াল কিলার সম্রাট গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক | সাভার
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

সাভার মডেল থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে, সাভার প্রেসক্লাবের পাশেই পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার। সেই ভবন ঘিরেই গত সাত মাসে একে একে সংঘটিত হয়েছে ছয়টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। সর্বশেষ রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া লাশ উদ্ধারের পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং থানার আশপাশেই ঘোরাফেরা করা পরিচিত এক ভবঘুরে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, গত সাত মাসে একই এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
একের পর এক মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি রোববার ওই পরিত্যক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে ধরা পড়ে ‘সাইকো’ সম্রাট
রোববার দুপুরে জোড়া লাশ উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা আগের ঘটনাগুলোর সময় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ এবং একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁধে করে মরদেহ বহন করছে। স্থানীয়রা যাকে ছদ্মবেশী ভবঘুরে হিসেবে চিনত, তাকেই শনাক্ত করা হয়।
এরপর অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।
সাংবাদিকের ভিডিওই বড় সূত্র
এর আগে গত শুক্রবার পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে এক নারী ও সম্রাটের একটি ভিডিও ধারণ করেন সাংবাদিক সোহেল রানা। ভিডিওতে ওই নারী নিজেকে সোনিয়া বলে পরিচয় দেন। দুদিন পরই সেই নারীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, সম্রাটই এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
ভয়াবহ সিরিয়াল কিলার
সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সম্রাট মানসিকভাবে বিকৃত বা ‘সাইকোপ্যাথিক’ কিলার। তার নিশানায় থাকত মূলত ভবঘুরে শ্রেণির মানুষ। প্রতিটি হত্যার ধরন ছিল একই রকম এবং অত্যন্ত নৃশংস। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি সাভার ব্যাংক কলোনি ও লালটেক এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন।
আতঙ্কে এলাকাবাসী
থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে, সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের পাশেই এমন সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিন যাকে চুপচাপ বসে থাকতে বা বিড়বিড় করতে দেখতেন, সেই মানুষই যে একাধিক হত্যার সঙ্গে জড়িত—এটা বিশ্বাস করাই কঠিন।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নিহতরা সবাই ভবঘুরে শ্রেণির। কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা জানতে মোটিভ উদ্ঘাটন জরুরি। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট