1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

কবিরহাটে গণপিটুনিতে হত্যা: বিএনপি নেতার ইন্ধনের অভিযোগ, পরিবারের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে ডাকাত আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের বিরুদ্ধে হত্যায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
জমি বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ডের

পরিবারের অভিযোগ-
নিহতের শ্যালক মোহাম্মদ জামাল অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি সকালে মনিনগর গ্রামে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় তার বাবা ওবায়দুল হকসহ তাকে মারধর করা হয় এবং তার হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান ওই হামলার বিচার চাইতে কালিরহাট বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে যান। সেখানে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদের ইন্ধনে, তার উপস্থিতিতেই কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে মিজানকে আটক করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে নুর মোহাম্মদ বাচ্চু (৬০), তার ছেলে যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), শিহাব উদ্দিন (২২), নুর উদ্দিন (৩৫)সহ আরও ১৫–১৬ জন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মিজানের মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য-

নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয়ে কথা বলছিলাম। মিজান সেখানে এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সে চলে যায়। এরপর শুনেছি কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে গেছে। মিষ্টি বিতরণের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ ফোন রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ বাচ্চুর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশের বক্তব্য-

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও ছিল। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট