1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির রাজত্ব: ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ সাবেক পরিচালক সাইদুল ইসলাম এর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিতর্কিত তিন পরিচালকের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছিলেন শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে একই অভিযোগে চার্জশিটভুক্ত হওয়ায় পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তৌফিকুল ইসলাম খানকে মন্ত্রণালয় বরখাস্ত করে। সর্বশেষ সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তার স্ত্রী শায়লা আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় সাইদুল ইসলাম ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তিনি প্রকাশ্যে ঘুষ নিতেন এবং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্ল্যাংক পাসপোর্ট ও ভুয়া এনওসির মাধ্যমে অর্ডিনারি ফি’তে জরুরি পাসপোর্ট ইস্যু করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।

ময়মনসিংহ অফিসে কর্মরত থাকাকালে এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হন। এর মধ্যে রয়েছে নিজ এলাকা সাঁথিয়ায় ১০ বিঘার বেশি পুকুর, কাশিয়ানি বাজারে ভবনসহ ১০ শতাংশ জমি, ২০ বিঘার বেশি ফার্ম, নরসিংদীতে ২৯ ও ৬৫ শতাংশ জমির ওপর কারখানা, উত্তরা এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট, বছিলা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে ৫ কাঠার প্লট, শ্যাওড়াপাড়ায় ১৭ কাঠা জমি, মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কারখানা স্থাপনের জন্য তিনি মেঘনা নদীর তীরে সাত বিঘা জমি কিনেছেন। অনুসন্ধানে দুদক মনে করছে, তিনি অন্তত ৩০ কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার (২০ মে) মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, তার নামে ঢাকার উত্তরায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ধানমন্ডিতে ২ হাজার বর্গফুটের একটি প্লট কেনা হয় ২ কোটি টাকায়। গ্রিন রোডে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুটের তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে, প্রতিটির মূল্য ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া লালমাটিয়ায় ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা), ইন্দিরা রোডে ৬৫ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট, শান্তিনগরে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার আরেকটি ফ্ল্যাট এবং নীলক্ষেতে ২ কোটি ২০ লাখ টাকায় কেনা দুটি দোকান রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে ৬৪ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই তিন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন বিশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল। মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ তারা উপেক্ষা করতেন। এমনকি বর্তমান মহাপরিচালকের বিরুদ্ধেও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট