1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

এস আলম থেকে ঘুষ নিয়েছেন – ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান-দুদকে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ থেকে দুই কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাশাপাশি অবসরের পর প্রায় ২৭ মাস এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে মাসিক সাড়ে ৬ লাখ টাকা বেতনে চাকরি করার তথ্যও উঠে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এসআইবিএলসহ কয়েকটি ব্যাংক দখলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেসব কর্মকর্তার সহায়তা পেয়েছিল এস আলম গ্রুপ, তাদের অন্যতম হিসেবে এস এম মনিরুজ্জামানকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নথি অনুযায়ী, এস এম মনিরুজ্জামান ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই দিন সন্ধ্যার পর অনুমোদনের চিঠি এলেও গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বসিয়ে রেখে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তিনি ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি গভর্নর পদে দায়িত্ব পালন করেন।
দুই কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে সবচেয়ে আলোচিত লেনদেনটি ঘটে ২০২১ সালের আগস্টে। ১৭ আগস্ট ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের গুলশান সার্কেল–১ শাখায় মনিরুজ্জামানের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। এর দুই দিন পর, ১৯ আগস্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জুবলি রোড শাখায় এস আলম ভেজিটেবল অয়েল নামে পরিচালিত হিসাব থেকে তার অনুকূলে দুই কোটি টাকার একটি পে–অর্ডার ইস্যু করা হয়। ২৪ আগস্ট ওই অর্থ ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা হয় এবং সেদিনই তা দিয়ে তিনটি এফডিআর খোলা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ অর্থ কোনো বৈধ সেবা, চুক্তি বা বাণিজ্যিক লেনদেনের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ব্যাখ্যা বা নথি পাওয়া যায়নি। একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরের হিসাবে একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে অর্থ জমাকে অত্যন্ত সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবসরের পর এস আলম গ্রুপে চাকরি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কোটি টাকা লেনদেনের প্রায় তিন মাস পর এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার কোম্পানি থেকে রূপালী ব্যাংকে পরিচালিত মনিরুজ্জামানের হিসাবে নিয়মিত অর্থ জমা হতে শুরু করে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অবসরের পর তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রায় ২৭ মাস চাকরি করেন। এ সময় বেতন বাবদ তার হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

বিএফআইইউর মতে, ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন সময়ে তিনি এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে থাকতে পারেন। এর বিনিময়ে তাকে পে–অর্ডারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়।

বিপুল অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন
বিএফআইইউ জানায়, মনিরুজ্জামানের নামে ১১টি ব্যাংকে মোট ১৫৯টি হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ হিসাবে স্থিতি ছিল প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

নথি বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৩ সালের মার্চে তিনি প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। হিসাব খোলার দিনই সেখানে ৭ লাখ টাকা জমা দিয়ে একটি এফডিআর খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই হিসাবে বিপুল অঙ্কের নগদ ও ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, যা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে তার স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্ত্রী-সন্তানদের হিসাবেও কোটি টাকার লেনদেন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনিরুজ্জামানের স্ত্রী নাদিরা আক্তারের নামে তিনটি ব্যাংকে আটটি হিসাব এবং সন্তানদের নামে তিনটি ব্যাংকে সাতটি হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বর্তমানে স্থিতি রয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা।
বিশেষভাবে নাদিরা আক্তারের প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাবে ২০১৯ সালের জুন থেকে বড় অঙ্কের নগদ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের উৎস সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার মনিরুজ্জামানের
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম মনিরুজ্জামান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে কোনো ঘুষ নেননি। তার দাবি, এস আলম গ্রুপের কাছে দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন, ওই অর্থ সেই লেনদেনের

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট