1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

সওজের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক খায়রুল হক। এর আগে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ জুন আসামিদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল ১৬ আগস্ট পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন, যেখানে তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯২ টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে অনুসন্ধানে তার নামে মোট ৩ কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে প্রায় ৯১ লাখ ১৩ হাজার ৮১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠে।
এছাড়া তার পারিবারিক ব্যয় ও দানসহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬০ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ২৬৭ টাকা। ফলে ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদের উৎস দেখাতে না পারায় তা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার মায়ের দানকৃত ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রথমে আয়কর নথিতে দেখিয়ে পরে তা দান হিসেবে নিজের নামে স্থানান্তর করেন। এরপর ওই অর্থ থেকে স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে বিভিন্ন সময়ে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দান করেন। দুদকের মতে, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে বৈধতা দিতে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অন্যদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৪০ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু অনুসন্ধানে তার নামে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৩১ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩০০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া তার নীট সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ টাকা। গ্রহণযোগ্য আয় বাদ দিলে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫২ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দুদক প্রমাণ পায়। এর মধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা স্বামীর কাছ থেকে দান সূত্রে প্রাপ্ত।
দুদকের মতে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধ করার কাজে স্ত্রী হিসেবে ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদ তার স্বামীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। সে কারণে এ মামলায় ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে প্রথম আসামি এবং আবু হেনা মোস্তফা কামালকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।
উভয় মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের আগস্টে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের খানাখন্দ সংস্কারে গাফিলতি এবং প্রায় ৬ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ তছরুপের অভিযোগে আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বর্তমানে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট