1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার-

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে রাজউকের দুই কর্মচারীর নাম। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বল্প বেতনের সরকারি কর্মচারী হয়েও তারা কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ সংক্রান্ত একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। অভিযোগের কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর মো. আমিনুল ইসলাম রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মো. হেলাল উদ্দীন একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে দুদকে আরেকটি আবেদন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী হয়েও জাহিদুল ইসলাম সবুজ বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। ১৯৯৮ সালে রাজউকে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় থেকে তিনি ঘুষ বাণিজ্যের একটি শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশি মতো অফিস করেন সবুজ। ফাইল তদবিরে ব্যস্ত থেকে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্বাক্ষর না করলে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে।
২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনে রাজউকের ‘৪২১ নম্বর কক্ষ’কে ঘুষ লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে সবুজ বসতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক প্লট একাধিকজনের কাছে বিক্রি, নথি গায়েব, প্যাকেজ ঘুষসহ বিভিন্ন অনিয়মে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘুষের টাকায় রাজধানীর মাদারটেক কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ১০ কাঠা জমিতে বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবনে শেয়ার কেনা, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর ও বগুড়ার শেরপুরে বাড়ি নির্মাণ এবং নোহা মাইক্রোবাসের মালিক হওয়ার তথ্য অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের ভবানীপুরে অবস্থিত ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’-এরও শেয়ারহোল্ডার তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজধানীর অভিজাত ক্লাব ও বারে নিয়মিত যাতায়াত এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে অভিযোগ
রাজউক জোন-৫ এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও উচ্চমান সহকারী (অ. দা.) ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর মেহেদী হাসান নামের এক ভুক্তভোগী প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ঠিকাদার ও গ্রাহকদের জিম্মি করে রেখেছেন মলি। প্রাক্কলন, চুক্তিপত্র, বোর্ড সভার কর্মপত্র, ঠিকাদারদের বিল এবং প্ল্যান পাসের নথি ঘুষ ছাড়া ছাড়েন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ১৭, ২২ ও ২৭ নম্বর সেক্টরে তিনটি প্লটের মালিক হয়েছেন। এছাড়া ঝিগাতলার হাফিজুল্লাহ গ্রিন টাওয়ারে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের তিনটি ফ্ল্যাট এবং নারায়ণগঞ্জ ও গ্রামের বাড়ি চাঁদপরায় বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দামী নোহা গাড়ি ব্যবহার করাও অভিযোগে উঠে এসেছে।
মলি নিজেকে রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ দাবি করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যদিও সংগঠনের কাঠামোতে এমন পদের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্ত চলমান বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, কোনো কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেন না এবং একটি চক্র তাকে হেয় করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ফাতেমা বেগম মলির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট