ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে গ্যারেজ থেকে একটি গাড়ি নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় দেড় মাস পার হলেও গাড়িটি ফেরত দেননি। উল্টো গ্যারেজ মালিককে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নূর আহমেদের ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, নগরীর বন্ধগেট এলাকায় নূর আহমেদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে গাড়ি মেরামতের পাশাপাশি বৈধভাবে গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা পরিচালনা করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিকেলে যুবদল নেতা তন্ময় গ্যারেজে গিয়ে একটি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। দরদাম শেষে গাড়িটির মূল্য ছয় লাখ টাকা নির্ধারণ হয়। এরপর এক ঘণ্টার জন্য ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে গাড়িটি নিয়ে যান তিনি।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফেরেননি। ফোন দেওয়া হলে তিনি প্রথমে কল রিসিভ করেননি।
পরদিন যোগাযোগ করলে তন্ময় মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলেন। এরপর একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ফোনে তিনি জানান, দলের চেয়ারপারসন অসুস্থ থাকায় তিনি ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন এবং রাজশাহী ফিরে যোগাযোগ করবেন। পরে ফোন বন্ধ করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাড়ি ফেরত চেয়ে চাপ দিলে তন্ময় নূর আহমেদকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন।
নূর আহমেদ বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি রাজপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ২২ ডিসেম্বর রাজশাহীর সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
বিষয়টি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জানানো হলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গাড়িটি তিনি লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে কিনেছেন। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা ও বিআরটিএর সব বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। এর আগেও তন্ময়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় বলেন, গাড়িটি অচল অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ আগে অন্য একজনের কাছে গাড়িটি বিক্রি করেছিলেন এবং পরে আবার তার কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তন্ময়। তিনি এ ঘটনায় নূর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলকে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।