1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

রাজউক কর্মকর্তার সম্পদের পাহাড়, উৎস নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর এক নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বল্প বেতনের চাকরি করেও তিনি কোটিপতি বনে গেছেন।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাছুমপুর (উকিলপাড়া) মহল্লার বাসিন্দা আবু তাহের রাজউকের উত্তরা শাখায় নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং জীবনযাপনে রাজকীয় আড়ম্বর দেখা যায়।
কোটি টাকার বাড়ি, একাধিক সম্পত্তির অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর এলাকায় আবু তাহেরের রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ছয়তলা দৃষ্টিনন্দন ভবন। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও কাজিপুর উপজেলার গ্রামে কয়েক বিঘা জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার আয়ের উৎস নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, আবু তাহের সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল ইউনিয়নের গান্দাইল উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন মুন্সীর বড় ছেলে। পেশায় তার বাবা একজন কৃষক। পারিবারিকভাবে অভিজাত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও বর্তমানে আবু তাহের ও তার পরিবার বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ।

চাকরি ও সম্পদ বৃদ্ধির সময়কাল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তৎকালীন মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সুপারিশে ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে আবু তাহের প্রথমে রাজউকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে যোগ দেন। পরে উত্তরা শাখায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার চাকরি স্থায়ী হয়। এরপর থেকেই তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২০ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর এলাকায় পাঁচ শতক জমি কিনে সেখানে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন আবু তাহের। বর্তমানে ওই জমি ও ভবনের বাজারমূল্য তিন কোটি টাকার বেশি বলে স্থানীয়দের দাবি। ভবনটি সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। ভবনের সামনে ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ডও দেখা গেছে।

স্বজনের দাবি ও পাল্টা বক্তব্য-

এ বিষয়ে আবু তাহেরের চাচাতো ভাই গোলাম রব্বানি বলেন, চাকরি পাওয়ার পর আবু তাহের নিজ গ্রামে ২৩ ডিসিমেল জমি কিনেছিলেন। পরে তা বিক্রি করে শহরে জমি কেনা হয়। শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির টাকা, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঢাকায় আবু তাহেরের কোনো ফ্ল্যাট নেই এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে আবু তাহের নিজে বলেন, “আমার বাবার সম্পত্তি বিক্রি ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেছি।”

রাজউকের প্রতিক্রিয়া
রাজউকের লিয়াজোঁ অফিসার মাহফুজ রেজা বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি এই প্রথম জানলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট