নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুই হোতাসহ ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ডিভাইস এবং নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেলার ৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে একযোগে অভিযান চালিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশ এই আটকের কার্যক্রম পরিচালনা করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
আটকদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই হোতা হলেন— মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একজন প্রতারক কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নওগাঁ শহরের পোরশা রেস্ট নামে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন। পরে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই হোটেলের ১১ নম্বর কক্ষ থেকে প্রতারক আহসান হাবিব, তার সহযোগী মামুনুর রশিদ, পরীক্ষার্থী হাবিবুর রহমান এবং তার বাবা ফারাজুলকে আটক করা হয়।
পরবর্তী সময়ে আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে সংরক্ষিত পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। হোটেলের অন্যান্য কক্ষে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়। তাদের মোবাইল ফোনেও পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।
আরেকটি কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী সারোয়ারকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকেও আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবিব স্বীকার করেছেন, তিনি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান ও ফারুক হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুরের বাবা ফারাজুলের কাছ থেকে অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।