জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর২০২৫) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–২ এর উপ-সহকারী পরিচালক আবুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ। মামলাটি দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১ এ রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম (৫২) ও তার স্বামী মো. ফজলে ইলাহি (৫৮)। ফজলে ইলাহি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক দপ্তরের উপ-পরিচালক (হিসাব ও অর্থ) হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন।
দুদক সূত্র জানায়, ফেরদৌসী বেগম তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ অর্জিত অর্থ দ্বারা স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা ও তা ভোগদখলে রাখতে সহযোগিতা করার অভিযোগে মো. ফজলে ইলাহির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফেরদৌসী বেগমের নামে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং সমবায় সমিতির শেয়ারসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তার নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩১ টাকা।
একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ বাবদ তিনি ব্যয় করেন ৩৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৩১ টাকা। বিপরীতে, অনুসন্ধানে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় ৬৯ লাখ ১৯ হাজার ১৬১ টাকা।
এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০ টাকা।
অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট সময়ে এ সব শেয়ার ক্রয় ও বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য ফেরদৌসী বেগমের ছিল না। বরং তার স্বামী মো. ফজলে ইলাহি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরিরত অবস্থায় নিজ অর্জিত অর্থ দ্বারা পারস্পরিক যোগসাজশে স্ত্রীর নামে এসব সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।