1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ডাকাতের’ মামলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি-
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুর প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায় পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মো. খোকন (৩৯) নামে এক ডাকাতি মামলার আসামি।
গত ২৭ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে, গত ২৮ নভেম্বর একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারের পর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের সময় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন আসামি খোকন।
এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে মামলা করার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ সপন।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন ফরিদগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলায় (জি আর নং–৩১৫/২৫) গত ১৬ ডিসেম্বর তিনজন অজ্ঞাতনামা আসামিকে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের আবেদনের পর খোকনের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের সময় তিনি পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দেন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের সময় স্মারকপত্রে খোকনকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ ছিল এবং পুলিশ ফরওয়ার্ডিংয়ে কোনো জখমের কথা লেখা হয়নি। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে সরেজমিনে পরীক্ষা করে নির্যাতনের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন।
এ সময় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ ডিসেম্বর চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসক রানা সাহা ও আসিবুল হাসান চৌধুরীর দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামির উভয় পায়ের উরুর ওপর একাধিক নীলচে ফোলা ও জখম রয়েছে। চিকিৎসা সনদে এসব জখম প্রায় চার দিন আগের বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আদালতের মামলা দায়েরের নির্দেশের পর গত ২৩ ডিসেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতার কথা উল্লেখ করে তদন্তের জন্য ১৫ দিনের সময় আবেদন করেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট সময় বিবেচনা না করে পূর্বের মামলা দায়েরের আদেশ বহাল রাখেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য। ফলে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের ব্যতীত তদন্ত পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।
সর্বশেষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ ইফতেখারকে।
মামলার বাদী মো. খোকন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি সরদার বাড়ির শাহজাহানের ছেলে। তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার আসামি। সর্বশেষ ২৮ নভেম্বর ডাকাতির ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামের মিজি বাড়ির রহিম বাদশার স্ত্রী পেয়ারা বেগম। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন খোকন।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান বলেন, আদালতের আদেশের পর ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট